দেবলীনা নন্দীর ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন নন্দিনী ভট্টাচার্য।

নন্দিনীর মতে, ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরের দিন দেবলীনা যেভাবে কথা বলেছেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেবলীনার মানসিক এবং শারীরিক শক্তি অত্যন্ত বেশি বলেই এই পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন প্রাথমিকভাবে দেওয়া তথ্য নিয়েও। প্রথমদিকে বলা হয়েছিল, দেবলীনার মায়ের পাশে দেবলীনা ছাড়া আর কেউ নেই। কিন্তু পরে দেখা যায়, তাঁর ভাই ও দিদি দুজনেই রয়েছেন। এতে বোঝা যায় শুরুতে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামনে আনা হয়েছিল, যা গোটা ঘটনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠার বলা নানা কথার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, যদি দেবলীনা সত্যিই স্বামীর থেকে বেশি রোজগার করেন, তাহলে বারবার সেই বাড়িতেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছেন যেখানে তিনি মানসিক ভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। একজন স্বনির্ভর, রোজগেরে মহিলার আত্মসম্মান বোধ নিয়ে এই প্রশ্ন উঠে আসা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন নন্দিনী। তিনি আরও বলেন, যদি একজন আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল মহিলা এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, তাহলে যাঁদের নিজের কোনও রোজগার নেই, তাঁদের জন্য পথটা কোথায়।

নন্দিনী ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তাহলে একজন ব্যক্তি কিভাবে এতগুলো ঘুমের ওষুধ নিজের কাছে রাখতে পারে? ঘটনা ঠিক একদিন আগেই দেবলীনা স্বাভাবিকভাবে ভিডিও বানিয়েছেন। তাহলে এক দিনের মধ্যে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়াটা উত্তরটা বাস্তব সম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বহু পুরুষ ও স্ত্রীর চাপে পড়ে শুধুমাত্র সন্তানের কথা ভেবে বাবা-মার থেকে দূরে চলে যান এবং অনেক ক্ষেত্রেই মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই ঘটনা গুলো নিয়ে কখনও এমন আলোড়ন হয় না।

দেবলীনার পুরুষ বন্ধু সায়ককে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন নিয়েও তিনি জানান, বন্ধুত্ব থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যদি একই পরিস্থিতিতে দেবলীনার স্বামীর পাশে কোনো নারী বন্ধু থাকতেন এবং সবকিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতেন, তাহলে সমাজ কি বিষয়টাকে একইভাবে দেখত? প্রশ্ন ছুড়েছেন তিনি।

Post a Comment

Previous Post Next Post